মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলার পটভূমি

গাবতলি উপজেলা পরিচিতি

অবস্থানঃ-     উত্তর-দক্ষিণ লম্বাকৃতি গাবতলী উপজেলাটি ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে ২৪৪৬ এবং ২৫০১ উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে ৮৯২২ এবং ৮৯৩৩ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। গাবতলী উপজেলার উত্তরে শিবগঞ্জ ও সোনাতলা, পূর্বে সারিয়াকান্দি, দক্ষিণে ধুনট এবং পশ্চিমে বগুড়া সদর ও শাজাহানপুর উপজেলা অবস্থিত।

যাতাযাতঃ- এ উপজেলার দুরত্ব জেলা শহর বগুড়া থেকে মাত্র ৯ কিঃমিঃ। জেলা শহরের নিকটবর্তী হওয়ায় উপজেলাটির যাতাযাত ব্যবস্থা বেশ উন্নত। উপজেলা সদরের সাথে পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোর পাকা সড়ক পথ ছাড়াও জেলা শহর বগুড়া ও সোনাতলা উপজেলার সাথে রেলযোগাযোগ রয়েছে। উপজেলা সদরের সাথে সকল ইউনিয়ন সদরের সারা বছর গাড়ী চলাচলের উপযোগি পাকা বা কাঁচা রাস্তার সংযোগ রয়েছে।

                    এ উপজেলায় ১৫২ কিঃ মিঃ পাকা সড়ক এবং ৩৩০ কিঃ মিঃ কাঁচা সড়ক ও প্রায় ১০ কিঃ মিঃ রেলপথ রয়েছে। উপজেলার ভিতরের ও বাহিরের জনজীবনের যোগাযোগের মাধ্যম গুলোর মধ্যে রয়েছে বাস, ট্রাক, টেম্পু, গ্যাস চালিত অটোরিক্সা, রিক্সা, রিক্সা ভ্যান ও গরুর গাড়ী।

                    বগুড়া হতে সহজেই গাবতলী উপজেলায় আসা যায়। বগুড়া ঠনঠনিয়া বাসষ্ট্যান্ড হতে রিক্সাযোগে নারুলী টেম্পু/বাসষ্ট্যান্ডে এসে টেম্পু/বাসে করে গাবতলী আসা যায়। ইচ্ছে করলে ঠনঠনিয়া বা সাতমাথা হতে গ্যাস চালিত অটোরিক্সা যোগে সরাসরি গাবতলী আসা সম্ভব। তাছাড়া বগুড়া রেলওয়ে ষ্টেশন হতেও ট্রেনযোগে গাবতলীতে আসা যায়।

 

ভূ-প্রকৃতিঃ-  সমগ্র উপজেলাটি তিস্তাবাহিত পাললিক সমভূমি অঞ্চলে অবস্থিত। এ এলাকার বেশীর ভাগই সামান্য অসমতল থেকে সমতল উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমি। এ সব অসমতল জমি বেশির ভাগই মানুষের তৈরি। কৃষি কাজের সুবিধার জন্য পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হিসাবে নালা কেটে সমতল জমিকে অসমতল করা হয়। সোনারায় ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকায় এ ধরনের অসমতল জমি রয়েছে। উপজেলার উঁচু জমি বর্ষাকালে সাধারণ প্লাবিত হয় না তবে নিচু অংশ সামগ্রিক ভাবে প্লাবিত হয়। মাঝারি উঁবু জমি, মাঝারি নিচু জমি ও বিলগুলো বর্ষাকালে গভীর থেকে মাঝারি গভীর ভাবে প্লাবিত হয়। এখানে কাঁকড়ার বিল, লস্করি পাড়া বিল, শরকিদহ বিল, ধনঞ্জয়ের বিল, কর্নির পাড়া বিল ছাড়া নিম্নাঞ্চল নেই বললেই চলে। এই উপজেলার মধ্য দিয়ে ইছামতি, বাঙ্গালী, গজাড়িয়া ও শুকদহ নামে চারটি নদী বহমান। অধিকাংশ এলাকা পলি ও দো-আঁশ মাটি দ্বারা গঠিত। তবে পূর্ব গাবতলী অর্থাৎ নেপালতলী ইউনিয়নের দক্ষিণাংশ, দূর্গাহাটা ইউনিয়ন এবং মহিষাবান ও বালিয়াদিঘী ইউনিয়নের কিয়দংশে বেলে দো-আঁশ মাটির আধিক্য পরিলক্ষিত হয়। নদী বিধৌত উর্বর গাবতলীর মাটিতে প্রচুর খাদ্য শস্য উৎপাদিত হয়। গাবতলীর ধান ও সবজী দেশের অন্যান্য স্থানের চাহিদা পূরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

 

জলবায়ুঃ- বাংলাদেশের অন্যান্য স্থানের মত গাবতলী উপজেলাও ক্রান্তীয় জলবায়ুর অর্ন্তগত। এখানে ষড়ঋতুর মধ্যে প্রধানত তিনটি মৌসুম জোরালোভাবে পরিলক্ষিত হয়। বর্ষা মৌসুমে সাধারণত মে থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। শতকরা ৯৩ ভাগ বর্ষণ এ সময়ে হয়। শীত কাল আরম্ভ হয় নভেম্বরে এবং শেষ হয় ফেব্রুয়ারীতে। এখানে বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের চেয়ে শীতকাল প্রায় ১৫ দিন আগে শুরু ও ১৫ দিন পরে শেষ হয়। এ মৌসুম অত্যান্ত শুষ্ক ও শীতল, কখনও কখনও সামান্য বৃষ্টি হয়। মার্চ ও এপ্রিল মাসকে গ্রীষ্ম বা প্রাকবর্ষা কাল বলে গণ্য করা হয়। এ সময় বাতাস খুবই উত্তপ্ত হয় এবং বাতাসের জলীয় বাষ্পের পরিমান খুবই কম থাকে। মাঝে মাঝে বর্ষণসহ ঝড় বা দমকা বাতাস বইতে থাকে যাকে কালবৈশাখী বলা হয়। এ সময় কিছু শিলা বৃষ্টিও হয়ে থাকে। এখানে নিম্নতমক তামমাত্রা ডিসেম্বর ও জানুয়ারী মাসে পরিলক্ষিত হয় যার গড় প্রায় ১৯.১ সেঃ। চরম উষ্ণ তামমাত্রা মে মাসে ৪৩.৯ সেঃ এবং চরম শীতল তাপমাত্রা ফেব্রুয়ারী মাসে ৩.৯সেঃ পর্যন্ত হতে পারে। শীতকালে গড় বৃষ্টি পাত ৩৯ মিলিমিটার যা ঐ সময় বাষ্পীভবনের পরিমানের চেয়ে অনেক কম। দীর্ঘমেয়াদী পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, বৎসরে শীত মৌসুমে ৪/৫ মাস প্রায় শুষ্ক থাকে। আবার বর্ষা মৌসুমে কোন কোন মাসে মাত্রাধিক বৃষ্টিপাত হয়। নভেম্বর হতে মার্চ পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের মাসিক হার ৭৫ মিলিমিটারের কম বলে এ মাস গুলোকে শুষ্ক মাস বলা যায়।

নৃতাত্ত্বিক দর্শনঃ-      এ এলাকার অধিবাসীদের মধ্যে অর্ন্তমুখী ও রক্ষণশীল মনোভাব লক্ষ্য করা যায়। নিতান্তই চাকুরিজীবিরা ছাড়া পেশাগত কারণে এরা বাহিরে দূরে কোথাও যায় না বললেই চলে। তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন ও যমুনা বহুমুখী সেতু নির্মাণোত্তরকালে এখানকার অধিবাসীদের মধ্যে বহির্মূখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখানকার মুসলিম-হিন্দু নির্বিশেষে সকল ধর্ম ও সকল শ্রেণীর লোক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ন সহাবস্থানে বিশ্বাসী।